রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
দৃষ্টি নন্দন কলেজটির প্রবেশ পথে পা ফেলতেই দৃষ্টি কেড়ে নেয়। সারি সারি দেবদারু। আর তার ফাঁকে ফাঁকে গুনী মানুষদের কথামালা, উক্তির প্লেকার্ড। একটুখানি এগোলেই চোখে পড়ে নিপুণ হাতের কারুকাজ— জাতীয় ফুল শাপলা’র ভাস্কর্য, স্মৃতি স্তম্ভ, বইয়ের ভাস্কর্য ‘হৃদয়ে পুস্তিকা’, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, লাইব্রেরি, মসজিদ আর বাহারি ফুলের গাছ।
এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে গড়ে ওঠা মহাবিদ্যালয়টি হল সোনাহাট ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়। উপজেলার সেরা মহাবিদ্যালয়গুলোর একটি এটি। ভালো ফলাফলের কারণে চারবার উপজেলার সেরা মহাবিদ্যালয়ের স্বীকৃতি মিলেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত সোনাহাট ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯৯ সাল। মহাবিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে মহাসড়ক। আর একটু দূরেই ভারতের সীমানা পিলার ১০০৮।
বর্তমানে মহাবিদ্যালয়টিতে নয় শতাধিক ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। এখানে কর্মরত আছেন ৬৮ জন শিক্ষক। মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. বাবুল আকতার। তিনি পাঁচ বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
অধ্যক্ষ বাবুল আকতার জানান, সীমান্তবর্তী এ এলাকায় একসময় শিক্ষার আলো নিভু নিভু ছিল। এসএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভুরুঙ্গামারী অথবা বাইরে যেতে হতো। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের জন্য তা ছিল কষ্টসাধ্য। সেই সুযোগের অভাবেই অনেক মেয়ের বাল্যবিবাহ হতো।
তিনি আরও বলেন, “এই মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাল্যবিবাহ অনেক কমে গেছে। সোনাহাটের পাশ্ববর্তী চর অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য মহাবিদ্যালয়টি এখন বাতিঘরের মতো।”
ছাত্রছাত্রীরা জানান, মহাবিদ্যালয়টির টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলে, যা আধুনিক যুগে বেমানান। তাই তারা ইট-পাথরের একটি স্থায়ী একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


