রম্য লেখক, আমিনুল হকঃ
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের নৈসর্গিক প্রতীক — পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা। ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলিয়ে প্রতিবারই নতুন সাজে ধরা দেয় এই পর্বত। কখনও সাদা বরফে মোড়া, কখনও লাল, কমলা কিংবা কালচে রঙে সেজে ওঠে সে। যেন প্রকৃতির আঁচড়ে আঁকা এক জীবন্ত প্রতিকৃতি, যার সৌন্দর্যের তুলনা নেই।
প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা হয়ে ওঠে “রূপের রানী”। এ রূপের রানীকে খালি চোখে একনজর দেখার জন্য সারা দেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে যান বাংলাদেশের সর্বউত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায়—যা ‘হিমালয়কন্যা’ নামে পরিচিত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা।
তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব প্রায় ৫৩ কিলোমিটার। অক্টোবর ও নভেম্বর—এই দুই মাসকে বলা হয় ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা মাস’। এ সময় সাধারণত আকাশ থাকে মেঘমুক্ত, পরিষ্কার। তাই এই সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রকৃত রূপ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় জমে তেঁতুলিয়ায়।
ভারত ও নেপালের মাঝসীমায় অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার বা ২৮,১৬৯ ফুট। এর পাঁচটি সহোদর শৃঙ্গ হলো—কাবরু, তালুঙ, পান্ডিম, সিনিওলচু ও কুম্ভকর্ন।
সাহিত্যপ্রেমীদের চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু এক পাহাড় নয়, এক ভালোবাসার প্রতীক। তাই এর রূপ, সৌন্দর্য ও রহস্য সত্যিকারভাবে অনুভব করতে হলে দরকার পাহাড়প্রেমে ভরা এক মন। সেই মনই খুঁজে নেয় কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্রতার মাঝে নিজের প্রিয় মুখের প্রতিচ্ছবি।


