হক আমীন:
উত্তরবঙ্গের জেলা লালমনিরহাট- এর বিস্তীর্ন মাঠজুড়ে সবুজ তামাকগাছ আজ এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে । সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে তামাক চাষ নিরুত্সাহিত করার উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে চাষীরা ঝুঁকছে এ লাভজনক ফসলে। শুধু লালমনিরহাট নয়, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও নীলফামারী জেলাতেও একই প্রবনতা লক্ষনীয়।
প্রশ্ন হচ্ছে- কেন এ ঝোঁক? উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে অর্থনৈতিক বাস্তবতা । তামাক চাষে তুলনামূলক কম ঝুঁকি, নিশ্চিত বাজার এবং কোম্পানিগুলোর আগাম সহায়তা চাষীদের কাছে এটি আকর্ষণীয় করে তুলেছে । অনেকক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলো বীজ, সার এমনকি ঋন সহায়তাও দেয়, যা প্রারম্ভিক কৃষকের জন্য বড় প্রলোভন । লালমনিরহাট সদরের গোবাই গ্রামের শাহীনুল ইসলাম জমি থেকে তামাকের পাতা ভ্যান বোঝাই করে বাড়ী ফিরছিলেন। পথে দেখা। তিনি বলেন, তামাক চাষ অনেক লাভজনক। এ কারনে এবারই প্রথম জমিতে তামাক চাষ করেছেন।
কিন্তু তামাক চাষ লাভের পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ ক্ষতির গল্প । তামাক চাষ মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, অন্য ফসলের উত্পাদন কমায় এবং পরিবেশের ওপর ফেলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব । সবচেয়ে বড় কথা তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি- ক্যানসারসহ নানা জটিল, কঠিন রোগের কারন।
তাহলে সমাধান কোথায়? শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিকল্প পথ তৈরি করা। কৃষকের জন্য লাভজনক ও টেকসই বিকল্প ফসলের ব্যবস্থা করতে হবে । সরকারি প্রণোদনা, সহজ ঋন এবং বাজার নিশ্চিত করতে পারলে চাষীরা স্বাভাবিকভাবেই তামাক থেকে সরে আসবে । বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা হতে পারে । এ জেলাগুলির মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী । ভুট্টার বিবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে চাষীরা ভুট্টা চাষ করে তামাকের চেয়ে বেশী লাভবান হবে।
আজকের এ সবুজ তামাকক্ষেত আমাদের জন্য এক সতর্ক বার্তা। যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে আগামীতে এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত মূল্য দিতে হবে অনেক বড় করে। তাই সময়ের দাবি- চাষীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার পথ তৈরি করা ।


