মোঃ হাসমত আলী
প্রতিবছর বোশেখ আসে
নতুন রূপে, নতুন সাজে,
চিরচেনা, তবু অচেনা
এক অনিবার্য আগমনের মতো।
কখনো সে মঙ্গল বয়ে আনে,
কখনো আনন্দের উচ্ছ্বাসে
ভরে দেয় চারদিক,
আবার কখনো
নিজের স্বরূপে, স্বমহিমায়
নির্লিপ্ত, দৃঢ়
প্রকৃতির এক উচ্চারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খর রোদে দগ্ধ মাটি
ধূলিঝড়ের উন্মত্ততা,
হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝাপটা
সব মিলিয়ে বোশেখ
এক অস্থির অথচ গভীর সত্য।
তার ভেতরে ধ্বংস আছে,
আছে সৃজন,
আছে পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে
নতুনকে ডাকার অবিরাম আহ্বান।
গ্রামের মাঠে
কৃষকের চোখে জ্বলে ওঠে আশার আলো,
মাটির বুকে বোনা হয়
নতুন ফসলের স্বপ্ন।
শহরের পথে, শোভাযাত্রার ঢেউয়ে
সে হয়ে ওঠে উৎসব,
বাঙালির চিরায়ত আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
কিন্তু
বোশেখ এখন
শুধু ঋতুচক্রে আবদ্ধ নয়,
সে ঢুকে পড়েছে মানুষের ভেতরে,
মন, মানসিকতা, আচরণের গভীরে।
যেমন বোশেখ রূপ বদলায়
শান্ত থেকে ঝড়ো,
নির্মল থেকে দহনময়।
বোশেখ এখন শুধু ঋতু নয়,
একটি রূপক
পরিবর্তনের, অভিযোজনের,
কখনো বা নিঃশব্দ সুবিধাবাদের।
তবু বোশেখ আসে
প্রতিবারই নতুন এক প্রশ্ন নিয়ে
আমরা কি সত্যিই নবায়নের পথে?
নাকি শুধু রূপ বদলের অভিনয়ে মগ্ন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই
বোশেখ ফিরে আসে বারবার
প্রকৃতির বুকে
নিঃশব্দে,
মানুষের অন্তরের গভীরে।


