নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ:
জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তিতৃর্ণ সবুজ প্রান্তর- রেশমবাড়ি পাথার। দেশের সবচেয়ে বড় গো-চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। এ এলাকা শুধু একটি পাথার নয়, বরং দুগ্ধ শিল্পের এক জীবন্ত কেনদ্র। প্রায় ১৫’শ একর জমিজুড়ে বিস্তৃত এ গো-চারণভূমিতে প্রতিদিন দেখা মিলে কয়েক হাজার সাদা- কালো- লাল রঙের গরু, গাভী, বাছুরের অবাধ বিচরণ। কোনটা জার্সি, কোনটা শঙ্কর জাতের। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের বুক চিরে সাদা-কালো ঢেউ দোল খাচ্ছে।
শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নদীবন্দরের পশ্চিমে, বড়াল নদীর অববাহিকায় এ পাথার। কেউবা বলেন বাথান। বলা হয়, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরেই এ পাথারের যাত্রা শুরু হয়ছিল।
ভোরের আলো ফুটতেই এ পাথারে শুরু হয় প্রানচাঞ্চল্য। গ্রামের কৃষকেরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে ছুটে আসেন। গরুগুলি মুক্ত বাতাসে ঘাস খায়, ছুটে বেড়ায়-যা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দুধ উত্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাকৃতিক পরিবেশই যেন এখানকার গবাদি পশুর সবচেয়ে বড় সম্পদ।
এ গো-চারণভূমিকে কেনদ্র করেই ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঘাবাড়ী মিল্ক ভিটা। স্থানীয় খামারিদের দুধ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে সারা দেশে সরবরাহ করার মাধ্যমে মিল্ক ভিটা আজ দেশের দুগ্ধ চাহিদার একটি বড় অংশ পূরন করছে। ফলে রেশমবাড়ি পাথার শুধু একটি গো-চারণভূমি নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খুঁটিতে পরিণত হয়েছে।
এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এ গো-চারণভূমি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। জমির ওপর চাপ বাড়ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তাই এ অমূল্য সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত ব্যক্ত করেন।
রেশমবাড়ি পাথার দেশের এক অনন্য সম্পদ। এটি শুধু গবাদিপশুর চারণভূমি নয়, বরং গ্রামীন জীবন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয়। সঠিক যত্ন ও পরিকল্পনায় এ গো-চারণভূমি ভবিষ্যতে দেশের দুগ্ধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে-এমটাই স্থানীয়দের অভিমত।


