হক আমীন
দেশের দক্ষিণে বিস্তৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন- প্রকৃতির এক অপরূপ ভান্ডার। নদী, খাল, গাছপালা আর বন্যপ্রাণীর মিলিত আবাস এ বন। এ বনের অন্যতম আকর্ষণ চিত্রা ও মায়া হরিণ-নিরীহ, সুশ্রী আর প্রকৃতির সঙ্গে নিভিড়ভাবে জড়ানো এক প্রাণী।
একসময় সুন্দরবনের খাল-বিলে, বনেপথে, নদীর চরে দল বেঁধে ছুটে বেড়াত হরিন। বিশেষ করে কটকা, কচাখালী, হিরনপয়েন্ট, নীলকমল এর মতো ঘাস সমৃদ্ধ এলাকায় তাদের ছুটে চলার দৃশ্য যেন এক জীবন্ত কবিতা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই নজর কাড়া দৃশ্য এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, শিকার এবং মানুষের অনুপ্রবেশ-সবমিলিয়ে হরিণের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, হরিণ শুধু একটি প্রানী নয়, এটি পুরো বনজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখে। হরিণ তৃন লতা-পাতা, ঘাস খেয়ে বনকে সুষম রাখে। আবার এটি বাঘের অন্যতম খাদ্য। ফলে হরিণ কমে গেলে বনের খাদ্য শৃঙ্খলেও বিরূপ প্রভাব পড়ে।
বর্তমানে হরিণ রক্ষায় কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। বন রক্ষায় কঠোর নজরদারি, অবৈধ শিকার বন্ধ, আর স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি হরিণের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করতে পারে।
হরিণ শুধু বনের প্রান নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো হরিণ দেখবে শুধু বইয়ের পাতায়, চিড়িয়াখানার খাঁচায় বন্দি অবস্থায়।
প্রকৃতিকে বাঁচতে হলে, হরিণকে বাঁচাতে হবে। এখনই সময়-সচেতন আর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এ নীরব সৌন্দর্যকে রক্ষা করার।


