বিশেষ প্রতিনিধি
” পাপ ছাড়ে না বাপরে” লোকমুখে প্রচলিত এ প্রবাদটি যেন আরও বাস্তবে রূপ নিল। এক সময় যিনি ছিলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে, ক্ষমতার বলয়ে আচ্ছাদিত। সেই বেনজীরের শেষ রক্ষা হলো না। আইনের দীর্ঘ হাত অবশেষে তাকে ছুঁতে পেরেছে। গত ১২জুন দুবাইয়ে ইন্টারপোলের হাতে গ্রেফতার হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ দিনের পলায়ন জীবনের অবসান ঘটেছে।
বেনজীর একটি নাম, যা এক সময় ছিলেন ক্ষমতা, প্রভাব ও বিতর্কের সমার্থক। তার কর্মকান্ড নিয়ে বহু দিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। খবরের শিরোনাম হয়েছেন।
অভিযোগ ছিল অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের। কিন্তু প্রভাবশালী অবস্থানের কারনে তিনি ছিলেন ধরা ছোঁয়ার অনেক দূরে।
সময়ের পরিবর্তনে সেই অদৃশ্য বলয় ভেঙ্গে পড়ে। তদন্তের জাল ধীরে ধীরে ঘন হতে থাকে। আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে আসে তার নাম।
বিশ্বব্যাপী অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করা সংস্থা ইন্টারপোল। ইন্টারপোল দীর্ঘ দিন ধরেই বেনজীরের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। অবশেষে ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়। এ আটক শুধু এক জন ব্যক্তিকে নয়, এটি আইনের শাসনের এক অনন্য নজির।
বেনজীরে ঘটনা আবারও প্রমান করে- ক্ষমতা যতই বড় হোক, আইনের উবর্ধে কেউ না। দীর্ঘ দিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, এ ঘটনা সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেবে। অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারে না। বিচার হয়তো দেরীতে আসে, কিন্তু তা অবশ্যম্ভাবী।
এ ঘটনা শুধু একটি গ্রেফতারের গল্প নয়, এটি সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা। সততা, ন্যায়বিচার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা- এ মূল্যবোধগুলোই একটি সুস্থ সমাজের ভিত গড়ে তোলে।
সময়ের চাকা ঘুরে যায়, কিন্তু কর্মফল থেকে কেউ পালাতে পারে না। বেনজীরের গল্প তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়- অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের জয় একদিন হয়ই।


