নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ
গ্রামবাংলার জীবনচিত্রে হাট শুধু কেনাবেচার স্থান নয় – এটি এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রামীন জীবনযাপনের চাকা সচল রেখে চলেছে হাট। সপ্তাহের একদিন বা দুদিন এসব হাটে জমে ওঠে মানুষের ভিড়, বিনিময় হয় পন্য, পাশাপাশি ঘটে হৃদয়ের আদান – প্রদান। তেমনি এক ঐতিহ্যবাহী হাট হল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা হাট।
১৮৭০-৮০ দশকে ভাদুড়ি জমিদার পরিবারের হাতে যাত্রা শুরু হয় পোরজনা হাটের। সময়ের পরিক্রমায় জমিদারি প্রথা মুছে গেলেও হাটটি টিকে আছে আপন মহিমায়, যেন অতীতের এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে। হুরাসাগর নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই হাট একসময় ছিল নদী পথের বানিজ্য কেনদ্র।
একসময় পোরজনা হাট মানেই ছিল পাটের বিশাল বাজার । দেশের নানা অঞ্চল থেকে পাট ক্রেতারা বড় বড় নৌকা নিয়ে এখানে ভিড় জমাতেন। নদীজুড়ে সারি সারি নৌকা, পাটের গন্ধে ভরা বাতাস – সেই দৃশ্য ছিল এক অনন্য ঐতিহ্যের অংশ। সময় বদলেছে, পাটচাষ কমে যাওয়ায় এবং আধুনিক শিল্পের প্রসারের ফলে আজ আর সেই চিত্র দেখা যায় না। পাটের সেই সোনালি দিন যেন স্মৃতির পাতায় বন্দী হয়ে আছে।
তবে হাটের প্রান এখনও নিভে যায়নি। আজও পোরজনা হাটে কৃষি পন্য, টাটকা মাছ, টাটকা শাকসবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ভিড় করেন চার পাশের বিশ গ্রামের কৃষক, ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।
আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, যোগ হয়েছে নতুন পন্য, নতুন ক্রেতা – বিক্রেতা, কিন্তু হারিয়ে যায়নি গ্রামীন ঐতিহ্যের সেই স্বাদ।
পোরজনা হাট আজ শুধু একটি বাজার নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি সংস্কৃতি, একটি জীবন্ত স্মৃতি। এটি নীরবে বলে যাচ্ছে শত বছরের গল্প।
পোরজনা হাট আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উন্নয়নের স্রোতে ভেসে গেলেও শিকড়ের টান কখনো মুছা যায় না। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে টিকে থাকা এই হাটই গ্রামবাংলার প্রকৃত পরিচয় বহন করে।


