স্পোর্টস ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের চেয়ে ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তামিম ইকবাল। এ কারণে জাতীয় দলের একাদশ কিংবা খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে বর্তমান জাতীয় দলের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বড় পুল তৈরি করা হবে। এই পুল থেকেই বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল বাছাই করা হবে। তবে কারা খেলবেন বা একাদশে কারা থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের ওপরই রাখতে চান তিনি।
তামিমের ভাষায়, ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ তৈরি করাই বোর্ডের দায়িত্ব। মাঠে পারফর্ম করার দায়িত্ব ক্রিকেটারদের।
দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, বোর্ড সভাপতি যদি সরাসরি একাদশ কিংবা নির্বাচনের সিদ্ধান্তে যুক্ত হন, তাহলে দলের ব্যর্থতার দায়ও তার ওপর বর্তাবে। এতে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তামিম বলেন, কোন ১১ জন খেলবে, সেটি তার দায়িত্ব নয়। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আলাদা টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক প্যানেল রয়েছে। তিনি প্রতিটি সিদ্ধান্তে যুক্ত হলে ব্যর্থতার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতার জায়গাটি দুর্বল হয়ে যাবে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে তাই খেলোয়াড় বাছাইয়ের চেয়ে ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকেই নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বিসিবি সভাপতি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট দল নির্বাচন ও একাদশ সাজাবে, আর বোর্ড তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়ে বড় প্রত্যাশা
এদিকে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তামিম। তার মতে, বর্তমান সময়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণে ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
বিসিবির নিজস্ব তহবিল থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে বোর্ডের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিসিবি সভাপতি।
তামিম জানান, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের বিডিংয়ের সময় পূর্বাচল স্টেডিয়ামকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে দেখানো হয়েছিল। স্টেডিয়াম নির্মাণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সরকারের বর্তমান গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বকাপের স্বার্থে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী বিসিবি সভাপতি।


