স্পোর্টস ডেস্ক
চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে দুর্দান্ত পেস আক্রমণে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে একাই তুলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ফাইফারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। মাত্র ৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান ৩৪ রানে ৬ উইকেটে।
ম্যাকাই টেস্টের আগে টেস্টে শরিফুলের সেরা বোলিং ছিল ২৮ রানে ৩ উইকেট। এক ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ শিকার ছিল ৫ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ইনিংসেই সেই দুই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।
শরিফুলের আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ড ছিল তাইজুল ইসলামের। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৬.৫ ওভারে ফাইফার নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। শরিফুলের প্রয়োজন হয়েছে ৮.৫ ওভার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতেও শরিফুলের আগে ছিলেন হাসান মাহমুদ। আগের টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন হাসান, তিনিও পেয়েছিলেন ৬ উইকেট।
ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম আট ব্যাটারের ছয়জনকেই সাজঘরে ফেরান শরিফুল। ৪৩ রানে ট্রাভিস হেডকে ইনসাইড এজে বোল্ড করে শুরু হয় তার উইকেট-উৎসব। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর স্টিভ স্মিথ, ব্যু ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে নিজের শিকারে পরিণত করেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়ে মিচেল স্টার্ক একাই নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। তবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে তাসকিন আহমেদের আঘাতে চাপে পড়ে যায়। এরপর সেই চাপকে বড় ধসের রূপ দেন শরিফুল ইসলাম।
চোট থেকে ফিরে এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে শরিফুল শুধু নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংই করেননি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাও আরও সমৃদ্ধ করেছেন।


