নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর খাস পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পীরপুকুরিয়া গ্রামে (শুক্রবার) রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে বিবাদমান সরকারি খাস পুকুরে পীরপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন ও তার লোকজন মাছ ধরার প্রস্তুতি নেন।গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সংঘর্ষে গ্রামের পুকুরপাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের লোকজনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন। এদের মধ্যে দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত জামিনুর রহমান নামে একজন নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষে আহত জামিনুর রহমান ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, পীরপুকুরিয়া গ্রামে প্রায় ৪০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের বসবাস করে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই খাস পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরকার পরিবর্তনের পর একবার, নির্বাচনের পর এখন একটি মহল মাছ ধরার পাঁয়তারা শুরু করেছে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য বিরেন জানান, তারা বহু বছর ধরে পুকুরপাড়ে বসবাস করে আসছেন। তবে জালাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি পুকুরটি তার পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। গতরাতে তিনি ও তার সহযোগীরা পুকুরে মাছ ধরতে এলে এলাকাবাসী বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন বলেন, পুকুরটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। এ সংঘর্ষের ঘটনায় তার পক্ষের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার জন্য কয়েকজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।


