নাজমুল হক (সিরাজগঞ্জ):
আমোদ আলীর বয়স সত্তর পার। গ্রামের মানুষ তাঁকে চেনে এক নামে- খেটে খাওয়া আমোদ আলী। ভোরের আলো ফোটার আগেই তাঁর দিন শুরু হয় । মাঠে মজুরি আর দু একটা গরু ছাগল পালন- এভাবেই সংসার নামক ঘানি টেনে চলেছেন তিনি । বাড়ি মাটির, চাল, বেড়া টিনের। উঠোনে ফসলের ডিবি, এক কোনে বাঁধা গরু। সংসারের ভার এখনও তাঁর কাঁধে । বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না । তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই । কারন থামলেই চুলায় আগুন জ্বলে না।
আমোদ আলীর চাওয়া বড় কিছু নয়। তিনি কোন জমিদার হতে চান না। চান না পাকা দালান। তাঁর স্বপ্ন সীমিত- দু বেলা ডাল-ভাত জুটবে, আর দু মুঠো নিশ্চিন্ত ঘুম এটুকুই ।
নতুন সরকার এসেছে। গ্রামবাংলার চায়ের দোকানে এখন রাজনীতির কেচ্ছা । নির্বাচনে হার জিত নিয়ে খুনসুটি চলছে। আমোদ আলী চুপচাপ শোনেন। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ” আমগো বেশী কিছু লাগবে না। হাতে কাম থাকুক, চালের দাম কম থাকুক, তবেই খুশি আমরা।” তাঁর কন্ঠে- দাবী নয়, এক রাশ প্রত্যাশা ।
তিনি জানেন না বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব । বোঝেন না বাজেট অঙ্ক । কিন্তু বোঝেন বাজারে চালের দাম বাড়লে তাঁদের কষ্ট বাড়ে। তাই তাঁর আশা নতুন সরকার যেন গ্রামগুলোর কথা একটু বেশি ভাবে। আর কাজের সুযোগ কমে না যায় ।
আমোদ আলীর জীবন আমাদের দেশের অগনিত প্রবীন শ্রমজীবী মানুষের প্রতিচছবি। যারা সারাজীবন পরিশ্রম করে । কিন্তু বার্ধক্যে এসে অনিশ্চয়তার ভয়ে দিন গোনেন। তাঁদের স্বপ্ন ছোট, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ করাই সরকারের বড় দায়িত্ব।
আমোদ আলীর মতো মানুষের জন্য উন্নয়ন মানে আকাশচুম্বি অট্টালিকা নয়, উন্নয়ন মানে পেট ভরে খেতে পারা, ন্যায় সঙ্গত মজুরি পাওয়া আর সম্মানের সাথে বাঁচা ।
আমোদ আলীর চাওয়া তাই সামান্য- দু বেলা ডাল-ভাত আর শেষ বয়সে নিশ্চিন্ত নি:শ্বাস । এ সামান্য চাওয়ার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বড় রাষ্ট্র চিন্তার প্রশ্ন। আমরা কি সত্যিই আমাদের শ্রমজীবী মানুষগুলোর পাশে আছি?


