ইবি সংবাদদাতা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেটে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধ কর্মসূচির ফলে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিদাওয়া পেশ করেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা এলাকা ত্যাগ করেন।
অবরোধ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনও সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ। শুধু ফজলুকে (প্রধান আসামি) গ্রেফতার দেখিয়ে অন্যান্য আসামিদের পার করে দিচ্ছে প্রশাসন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অসহযোগিতা করছে। খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।”
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি, উনারা আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু আমাদের মনে হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসহযোগিতা করছে। দ্রুত বিচার না পেলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
সার্বিক বিষয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে। অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারেও তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা নিজ অফিস কক্ষে খুন হন। এসময় ওই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার বাকি তিন আসামি—সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো পলাতক রয়েছেন।


