হক আমীন:
ভারত থেকে পণ্য বোঝাই ট্রাক নিয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌছেছেন এক ভিন্নধর্মী দম্পতি- গৌতম চক্রবর্তী ও অঞ্জলি চক্রবর্তী। পেশায় স্বামী চালক আর ইসতিরী তার সহযোগী (হেলপার)।
জীবিকার তাগিদে পথে পথে দু’জনই হয়েছেন একে অপরের ভরসা। জীবন সংগ্রামের সহযোদ্ধা।
ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই দম্পতিকে দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে, তাদের আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমের ছাপ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করা, সময়মতো পণ্য পৌছে দেওয়া-সবকিছুই তাদের প্রতিদিনের দায়িত্ব। তবে এই যাত্রা শুধু পেশাগত নয়, এটি তাদের জীবন সংগ্রামেরও প্রতিচ্ছবি।
অঞ্জলি চক্রবর্তী বলেন, ” কোন কাজকে ছোট করে দেখি না। পরিশ্রমই হল সফলতা। ভারতের অনেক নারী বাস, ট্রাক, এমনকি ট্রেনও চালাচ্ছেন। তারা সফল হচ্ছেন, আমিও সেই পথেই হাঁটছি।” তার এই কথায় ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং সমাজের বাঁধাধরা ধারণাকে ভেঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সঙকল্প।
গৌতম চক্রবর্তী জানান, শুরুতে অনেকেই অবাক হয়েছেন ইসতিরকে সঙ্গে নিয়ে এই পেশায় নামায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রমান করেছেন-ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে কোন কাজই অসম্ভব নয়। দু’জন মিলে কাজ করায় তাদের পথ চলা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি পারিবারিক বন্ধনও হয়েছে আরও দৃঢ়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার এই দম্পতির গল্প শুধু একটি পেশার গল্প নয়, এটি পরিবর্তনের গল্প, সাহসের গল্প, যেখানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে, সেখানে সমাজ এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পায়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের এক ট্রাফিক পরিদর্শক বলেন, স্বামী-স্ত্রী এক সাথে কাজ করলে দারিদ্র্যকেও জয় করা সহজ হয়। গৌতম- অঞ্জলি দম্পতি তার উজ্জল দৃষ্টান্ত।
গৌতম-অঞ্জলির এই যাত্রা আমাদের শেখায়-জীবনে সফল হতে হলে প্রয়োজন পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর পারস্পরিক সহযোগিতা। তখনই কঠিন পাথর হয়ে ওঠে সহজ, আর সংগ্রাম রূপ নেয় সাফল্যের গল্পে।


