সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু ইরামনির মৃত্যু এবং শিশু রামিসাকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা ও উদ্বেগ নতুন করে শিশু নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সামনে এনেছে। একের পর এক শিশু সংশ্লিষ্ট ঘটনা সামনে আসার পরও দৃশ্যমান তদন্ত অগ্রগতি ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া না থাকায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইরামনির ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনা, মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচনার তীব্রতা কমে আসে। তবে একটি শিশুর পরিবারের জন্য শোক এবং বিচারের অপেক্ষা এখনও চলমান, এমন দাবি করছেন সচেতন মহলের একাংশ। একইভাবে রামিসাকে ঘিরে স্থানীয় ও সামাজিক মহলে তৈরি হওয়া আলোচনা শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমানে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্কুলে যাওয়া, কোচিং, খেলাধুলা কিংবা পাড়ায় চলাফেরা সবকিছুতেই অভিভাবকদের মনে অজানা ভয় কাজ করছে। অনেক বাবা-মা বলছেন, “সন্তান বাইরে গেলেই বুকের ভেতর অস্থিরতা কাজ করে। হাটে-বাজারে, আড্ডায় একটাই প্রশ্ন “আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ কী?”
হাটে-বাজারে, দোকানে, রেস্তোরাঁয়, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসরজুড়ে এখন একটাই আলোচনা শিশুদের নিরাপত্তা। সাধারণ মানুষ বলছেন, একের পর এক ঘটনার পরও যদি দৃশ্যমান প্রতিরোধ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
অনেকের মুখে এখন তীব্র প্রশ্ন?
“আজ ইরামনি, রামিসা… কাল আর কার নাম যোগ হবে?”
“আমাদের সন্তানেরা কি তবে নিরাপদ কোনো ভবিষ্যৎ পাবে না?”
আরও কয়েকটি শিশু-সংক্রান্ত ঘটনা ঘিরে জনমনে উদ্বেগ
স্থানীয়দের মতে, শুধু দুটি ঘটনা নয় বিভিন্ন সময় শিশু নির্যাতন, দুর্ঘটনা, নিখোঁজ ও সহিংসতার খবর সামনে এলেও অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত বিচার ও কার্যকর সমাধান দৃশ্যমান হয় না। এতে মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, প্রতিটি শিশু ঘটনা আলাদা হলেও এর সামগ্রিক প্রভাব সমাজে গভীর আতঙ্ক তৈরি করছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে অনিরাপত্তা অনুভূতি দিন দিন বাড়ছে।
আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন?
বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষায় শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষা, বিচার ব্যবস্থা এবং বিশেষ আদালতের বিধান রয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন?
“আইন থাকলেও বাস্তবে তার দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রয়োগ কোথায়?”
“বিচার প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখবে কীভাবে?”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধে দ্রুত তদন্ত, সময়মতো চার্জশিট দাখিল এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন।
সচেতন মহলের দাবি
সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়রা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাদের দাবি শিশুদের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদার
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি শেষ প্রশ্ন কত শিশুর পর জাগবে ব্যবস্থা?
এখন সীতাকুণ্ডবাসীর কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন?
“ইরামনি ও রামিসা পর আর কত শিশুর নাম যোগ হলে শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?”
জনমনে বাড়ছে এই ধারণা যে, প্রতিটি ঘটনার পর যদি দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ, দৃশ্যমান বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে একই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।


