বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদের ওপর শিবগঞ্জ-গোপীনাথপুর ঘাট এলাকায় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু প্রায় দুই বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় এটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে দুই প্রান্তের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদের ওপর শীবগঞ্জ-গোপীনাথপুর ঘাটে ২০২১ সালে ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়। সেতুটি চালুর কথা ছিল ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক ছাড়া সেতুর বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন করেছে। এরপর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে কিন্তু সেতুটি আর চলু করা হয়নি। সেতুর পূর্ব অংশে শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি কাজে না আসায় স্থানীয় লোকজন নদী পারাপার হচ্ছেন বাঁশের সাঁকো দিয়ে। স্থানীয় লোকজন জানান, এই সেতুটি চালু হলে নদী দুই পারের মানুষের ব্যাপক উপকার হবে। সেতুটি নির্মাণ হলে নদীর পশ্চিম পারের মানুষদের নওগাঁ জেলা শহরে যাওয়ার জন্য অন্তত চার কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে। এছাড়া পশ্চিমপাড়ের মানুষদের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার না হয়ে সহজেই নদীর পূর্বপাড়ে শিবগঞ্জ বাজারে যেতে পারবেন। আবার শিবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। আবার নদীর পশ্চিম অংশে মহাদেবপুর উপজেলা সদর ও নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট। কৃষিপণ্য কিংবা ভারী কোনো মালামাল উপজেলা সদর বাজার ও ছাতড়া হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য নদীর পূর্ব অংশের মানুষদের অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।
গত বুধবার দুপুরে ওই সেতু এলাকায় দেখা যায়, সেতুটির পশ্চিম পাশের কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও পূর্ব অংশটি খালি। দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর দুই পাশে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে।
শিবগঞ্জ-গোপীনাথপুর খেয়াঘাটের ইজারাদার বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, শিবগঞ্জ-গোপীনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় আত্রাই নদের পূূর্ব পাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন। পশ্চিম পাশে চান্দাশ ও খাজুর ইউনিয়ন। এখানে সেতু না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার করতে হয় এই তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। এছাড়া পাশর্^বর্তী মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার মানুষদেরও প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে অন্তত ৪-৫ হাজার মানুষ পারাপার হয়। শীবগঞ্জে হাটের পাশে প্রাথমিক ও হাইস্কুল আছে। ওই স্কুলের শিক্ষার্থী যাদের বাড়ি নদীর পশ্চিম পাশে তাঁদেরকে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকায় করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। ভ্যানসহ বড় যানবাহন উপজেলা সদর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। সেতুটা চালু হলো এলাকার মানুষের অনেক উপকার হতো।
উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘বুদ্ধিজ্ঞান হওয়ার পর থেকে শিবগঞ্জ ঘাট দিয়ে শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছি। বর্ষায় আবার নদী পার হতে গিয়ে অনেকবার ভিজতেও হইছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে খেয়াঘাটে একটা ব্রিজ হইছে। কিন্তু কি কারণে জানি না সেতুটা চালু হচ্ছে না। সেতু না হওয়ায় আগের মতোই বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকায় করেই নদী পার হতে হচ্ছে।’
নদীর পূর্বপাড়ের চান্দাশ গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘চোখের সামনে পাকা ব্রিজ, কোটি কোটি টাকা খরচ। অথচ ব্রিজের ওপর উঠার উপায় নাই। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হয়। এটা ম্যাইনে নেওয়া যায়?’
সেতুটি নির্মাণ কাজ করছে ঢাকার দিলকুশার ম্যাক্স ইনফাট্র্রাকচার নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘দেড় বছর আগে ব্রিজের স্প্যান ও গার্ডার বসানোর কাজ শেষ হয়ে গেছে। তবে সেতুটার পূর্ব পাশে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক করা যায়নি। এলজিইডির ক্লিয়ারেন্স পাইলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুটার সংযোগ সড়কের কাজটি থেমে আছে। জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। আশা করছি, চলতি বছরেই সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’


