আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বিমান হামলার পরও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, পাহাড়ের নিচে গোপন বাঙ্কারে সংরক্ষিত রয়েছে অস্ত্র।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তেহরানের অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত রয়েছে।
জানা গেছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে সংরক্ষিত, যা সাধারণ বিমান হামলায় ধ্বংস করা কঠিন। যুদ্ধবিরতির এই সময়ে ইরান এগুলো পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে প্রায় ২,৫০০ মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার মধ্যে এক হাজারেরও বেশি এখনো ব্যবহারযোগ্য রয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘কার্যত ধ্বংস’, তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, তারা মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হলেও ভেতরের লঞ্চার বা অস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারেননি। ফলে ইরান এই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের লঞ্চার মেরামত ও পুনরুদ্ধার করতে পারছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অর্ধেকের বেশি লঞ্চার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিপুল পরিমাণ স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার মিসাইল এখনো তাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া ড্রোনের ৫০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হলেও দেশটি রাশিয়া ও চীন থেকে প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। পারস্য উপসাগরে হামলার জন্য তাদের কাছে এখনো কার্যকর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
সিআইএ’র সাবেক বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক সতর্ক করে বলেছেন, ইরান দ্রুত তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে সক্ষম। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছেন।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—এমন ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


