নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জ
গ্রামের মেঠোপথে হাঁটলে এখনও দেখা মেলে এমন কিছু যুবকের, যারা শহরমুখী না হয়ে, মাটিকেই আপন করে নিয়েছে। তেমনই এক অনন্য উদাহরণ মিজান-অদম্য সাহস, পরিশ্রম আর স্বপ্নে বড় এক নাম।
মিজান (৩৫) যেন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। সাহস আর কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করে সে গড়ে তুলেছে নিজের আলাদা পরিচয়-একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে।
ধান, গম, সরিষা কিংবা কালাই-যে ফসলই হোক, মিজানের হাতে যেন সোনা ফলায়। সময়মতো জমি প্রস্তুত, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার আর মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধ-এসবই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। গ্রামের মানুষ আজ তাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ।
অনেকে আবার তাঁর পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে।
কৃষির পাশাপাশি মিজানের আরেকটি পরিচয় আছে-সে একজন দক্ষ নৌকার মাঝি। নদীর ঢেউ আর স্রোতের সঙ্গে তাঁর যেন এক অদ্ভুত সখ্যতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দৃঢ় হাতে হাল ধরে রাখতে পারে সে। নদী পাড়ের জীবনে এ দক্ষতা তাঁকে দিয়েছে আরও এক ভিন্ন মাত্রা।
তবে এখানেই শেষ নয়। মিজানের রয়েছে আরেকটি অদম্য গুন-সে একজন চমত্কার বাবুর্চি। গ্রামে বিয়ে কিংবা যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্নার দায়িত্বে ডাক আসে তাঁর। সুস্বাদু রান্না আর পরিপাটি পরিবেশনের জন্য তাঁর আলাদা খ্যাতি রয়েছে। তাঁর হাতের রান্নায় অতিথিরা তৃপ্তির হাসি হাসেন, আর আয়োজকেরাও পান মানসিক স্বস্তি।
একজন মানুষ একাধিক পরিচয়-কৃষক, মাঝি, বাবুর্চি কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে সমান দক্ষ, সমান নিষ্ঠাবান।
আজকের এ সময়ে যখন অনেক যুবক সহজ পথ খোঁজেন, তখন মিজান প্রমান করেছে, পরিশ্রম আর সাহস থাকলে গ্রামেই গড়া যায় সাফল্যের গল্প।
মিজানের মতো যুবকেরাই বদলে দিতে পারে আমাদের সমাজকে, এগিয়ে নিতে পারে দেশকে। তাঁর গল্প শুধু একজন যুবকের নয়, এটি সম্ভাবনার, এটি অনুপ্রেরণার, এটি স্বপ্ন পূরণের এক জীবন্ত দলিল।


