সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে মাদকের অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এক সময় শান্ত ও বসবাসযোগ্য এলাকা হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন মাদক সংশ্লিষ্ট নানা কর্মকাণ্ডে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রকাশ্য ও গোপনে মাদকের লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা রহমতপুর, রেলওয়ে কলোনী, ছোট কুমিরা রহমতপুর, কান্তপুর পাড়া, জন্যাপুকুরপাড় এলাকায় নিয়মিত সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইভাবে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যম আঁকিলপুর এলাকাতেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অচেনা লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সহজে সন্দেহ এড়াতে নারী ও কিশোরীদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিষয়গুলো সঠিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে কুমিরা এলাকায় অন্তত দুইটি বড় মাদকের চালান প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব চালান সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ও প্রশাসনের নজরদারির আড়ালে বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এছাড়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের ধারণা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান।
মাদকের এই বিস্তারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। অনেক শিক্ষার্থী মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, ফলে তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবারে অশান্তি বৃদ্ধি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এদিকে, মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদক নির্মূলে প্রয়োজন ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাদক সরবরাহের উৎস বন্ধ করা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মুহিনুল ইসলাম বলেন, “মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেখানেই মাদকের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, মাদক প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকের এই বিস্তার রোধ করা হবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


