বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নওগাঁ সদরে অনুষ্ঠিত হলো ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তৃতীয় দিনের পরীক্ষা। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নওগাঁ সদর উপজেলার ৪টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় নওগাঁ সদর উপজেলার মোট ১৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৮১ জন পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র ছিল তিনটি: নওগাঁ জিলা স্কুল, নওগাঁ কৃষ্ণ ধন (কে.ডি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
অন্যদিকে, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মতো নওগাঁ জেলা শহরের দক্ষিণ অংশ হাট নওগাঁয় অবস্থিত প্রবাহ প্রি ক্যাডেট বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কেজি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং বিয়াম ও সীমান্ত স্কুলসহ মোট ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫৯ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ছিল নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল।
নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল: প্রথম দিন উপস্থিত ছিল ২২৮ জন, তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে।
নওগাঁ সরকারি জিলা স্কুল: ৫০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিন দিনই ৩৬৮ জন উপস্থিত ছিল এবং অনুপস্থিত ছিল ১৩৭ জন। কে.ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়: ৫২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিন উপস্থিত ছিল ৩৬৩ জন। নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: ৫৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিন উপস্থিত ছিল ৩৬০ জন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন উপস্থিত ছিল ৩৫৯ জন।
এবারের পরীক্ষার মান নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষা সহজ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফুটলেও, দ্বিতীয় দিনের ইংরেজি এবং তৃতীয় দিনের গণিত প্রশ্নপত্র তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীর কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা গেছে।
পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিয়মিত কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহীন মাহমুদ, এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ছানাউল হাবিব এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মিজানুর রহমান পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল কেন্দ্রের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র পাল। প্রতিটি কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।
গত ১৫ এপ্রিল বাংলা এবং ১৬ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ের যৌথ ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বৃত্তি পরীক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটবে।


