রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন হড়গ্রাম রেলক্রসিং ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে কাজগুলো পরিদর্শন শেষে তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, হড়গ্রাম রেলক্রসিং ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ দ্রুতই শেষ হবে এবং তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, শুধু হড়গ্রাম নয়, অন্যান্য ফ্লাইওভার ও উন্নয়ন কাজগুলোও ৩০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ দিনের একটি ফগার মেশিন স্প্রে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে। মশক নিধনের জন্য নতুন করে পর্যাপ্ত কীটনাশক ও ফগার মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে খুব শীঘ্রই সব ওয়ার্ডে একযোগে অভিযান চালানো যায়। এ সময় তিনি রাজশাহীকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় প্রশাসক প্রথমে কাঁঠালবাড়িয়া মোড় থেকে হাইটেক পার্ক হয়ে আইবাঁধ সংলগ্ন মিনি স্টেডিয়াম পর্যন্ত কার্পেটিং সড়ক, ড্রেন, ফুটপাত, রোড ডিভাইডার, রেলিং ও রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি গুলজারবাগ লেক ও হড়গ্রাম রেলক্রসিং ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ দেখতে যান।
হড়গ্রাম গোরস্থান পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জমে থাকা অতিরিক্ত মাটি অপসারণের দাবি জানালে প্রশাসক তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক হড়গ্রাম গোরস্থানে শায়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মিনারুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। তিনি শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সানারুল ইসলাম ছবিসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


