রম্য লেখক হক আমীন
একসময় গ্রামবাংলার মেঠো পথ মানেই ছিল ধুলো উড়ানো, বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ফেটে চৌচির মাটি। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সেই মেঠোপথই রূপ নিয়েছে পিচঢালা পথের। উন্নয়নের ছোঁয়ায় গ্রাম যেন পেয়েছে নতুন পরিচয়, নতুন গতি। তবুও হারিয়ে যায়নি তার চিরচেনা সৌন্দর্য, বরং তা যেন আরও উজ্জল হয়ে উঠেছে।
ছবির মতো সুন্দর এ পথটি যেন এক আঁকাবাঁকা কাব্য। দু’ধারে সারি সারি সবুজ গাছ, কোথাও তাল, কোথাও খেজুর, আবার কোথাও নাম অজানা বুনো গাছের মেলা। বাতাসে মৃদু দোল, পাখির কলতান-সবমিলিয়ে এক অপার্থিব পরিবেশ। পথ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়, যেন প্রকৃতি নিজেই হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
এ পিচঢালা পথ শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বদলে দিয়েছে গ্রামীন মানুষের জীবনযাত্রা। এখন কৃষক সহজেই তাদের উতপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতে পারেন, শিক্ষার্থীরা দ্রুত পৌছে যায় বিদ্যালয়ে, অসুস্থ মানুষ পায় দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ। উন্নয়ন এখানে শুধু ইট-পাথরের খেলা নয়, মানুষের স্বপ্নেরও।
তবুও এ উন্নয়নের মাঝেও গ্রাম হারায়নি তার আত্মা। শহরের কোলাহল নেই, নেই যান্ত্রিকতার ক্লান্তি। আছে শুধু সবুজ আর নির্মলতা। এ পথ যেন গ্রাম ও প্রকৃতির এক সেতুবন্ধন-যেখানে আধুনিকতা আর প্রাকৃতিক রূপ, সৌন্দর্য হাত ধরাধরি করে চলে।
গ্রামবাংলার এ অপার রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতি এখনও আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। পিচঢালা পথ যতই এগিয়ে যাক, এ সবুজের ছায়া, এ বিশুদ্ধ সৌন্দর্য যেন কখনও হারিয়ে না যায়। কারন, এ গ্রাম, এ পথই তো আমাদের শিকড়, আমাদের প্রান। তাইতো গীতিকার লিখেছেন, একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী।


