রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর রাণীনগরে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকার উঠতি ইরি-বোরো ধান, বাদাম ও বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি-এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী নগর ব্রিজ থেকে হরিশপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার আধা-পাকা ধান ও বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। হরিশপুর গ্রামের বাদাম চাষি আমেদ আলী জানান, নদীর পানি দ্রুত বাড়ায় তার অপরিপক্ক বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুত পাকা ধান কাটার তাগাদা দেওয়া হলেও অতিবৃষ্টি আর শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিরা তা পারছেন না।এদিকে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা ১নং স্লুইস গেটের নিচ দিয়ে বিলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্লুইস গেটের কপাটগুলো ঠিকমতো না বসায় এই বিপত্তি ঘটেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় শতশত চাষি নিজেদের উদ্যোগে ডালি-কোদাল নিয়ে স্লুইস গেট থেকে ৫০০ মিটার উত্তরে একটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছেন। আতাইকুলা গ্রামের চাষি গোলাপ হোসেন জানান, বিলে পানি প্রবেশ ঠেকাতে তারা দিন-রাত পালাক্রমে এই বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন যাতে শতশত বিঘা জমির ধান রক্ষা করা যায়।উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)রাকিবুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি জানানস্লুইস গেটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পানি প্রবেশ করছে। আমি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং দ্রুত লিখিতভাবে জানাব। তবে এই সমস্যার পেছনে মাছ ধরা চক্রের অসাধু তৎপরতাও দায়ী। আমরা কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করেছি।”উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, নদীর তীরবর্তী এলাকার নিচু জমির ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টি থামলে নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করবে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, স্লুইস গেটটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা না হলে এই অঞ্চলের প্রধান ধান উৎপাদনকারী বিলটি প্রতিবছরই ঝুঁকির মুখে পড়বে।


