পত্নীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা জুড়ে গতরাতে ভয়াবহ ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রাত আনুমানিক ২টার পর শুরু হওয়া এই ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে, বসতঘর বিধ্বস্ত হয় এবং কৃষিক্ষেত্রে নেমে আসে বড় ধরনের বিপর্যয়।
ঝড়ে পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বহু গাছ ভেঙে পড়ে। একইসাথে নজিপুর সরকারি কলেজ-এর অধিকাংশ গাছ উপড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা যেন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আমের মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাগানে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আম ঝরে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা বাগানের এমন ক্ষতিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। পাশাপাশি অনেক ধানক্ষেত ঝড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে উপজেলার দিবর ইউনিয়ন, নির্মইল ইউনিয়ন ও শিহাড়া ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে শিহাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পলিপাড়া গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাতভর আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছেন তারা। প্রবল ঝড়ে অনেক পরিবারের ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরের মাঠ ও ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এছাড়াও একটি বিশাল গাছ ভেঙে একটি বাড়ির উপর পড়ে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মোছাঃ মোরসেদা, পিতা মৃত শফিউদ্দিন। স্বামী না থাকায় তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঝড়ে তার ঘর ও বারান্দার সব টিন উড়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয়দের সহায়তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
এছাড়াও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোঃ তোজাম্মেল হক, মোঃ আছির উদ্দিন, মোঃ সামাদ, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ বুলবুল, মোঃ আব্দুল কালাম, মোঃ রহিম উদ্দিন, মোঃ আফজাল হোসেন, মোঃ মোকছেদুল, মোঃ মোজাম্মেল হক, মোঃ মাবুদ, মোসাঃ রাহেলা বেগম, মোছাঃ বেগম, মোঃ আবুবক্কর, মোঃ মতিউর রহমান ও মোসাঃ সালামসহ আরও অনেক পরিবার। কারো ঘরের টিন উড়ে গেছে, কারো পুরো বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, আবার কারো ঘরের টিন প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিশেষ করে অসহায় নারী রাহেলা বেগমের স্বামী মারা গেছেন। মানুষের সহযোগিতায় জীবনযাপন করছিলেন তিনি। ঝড়ে তার ঘরের সব টিন উড়ে যাওয়ায় তিনি চরম বিপদের মধ্যে পড়েছেন। একইভাবে মোসাঃ সালাম নামের আরেক নারী, যিনি ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার চালান, তার একমাত্র ঘরটিও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এমন ভয়াবহ ঝড় বহু বছর পর দেখেছেন তারা। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি সহায়তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও আম ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনারও দাবি উঠেছে।


