সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মোঃ রিফাতুল ইসলাম (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (২৪ মে) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা সৈকত সংলগ্ন খালের মুখে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে বিষয়টি ডুবুরি দলকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রিফাতুল ইসলাম কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা থেকে আসা পাঁচ বন্ধু গুলিয়াখালী সৈকতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকেন। স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে উদ্ধার করা গেলেও রিফাতুল ইসলাম নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরদিন রোববার সকালে পুনরায় ডুবুরি দল অভিযান শুরু করে। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা লাকি আহমেদ খান খালের মুখে একটি ওকটি গাছের সঙ্গে মরদেহ আটকে থাকতে দেখে উদ্ধারকর্মীদের খবর দেন। পরে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, “সমুদ্রে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ খালের মুখ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।”
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, “শনিবার বিকালে শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পরপরই আমরা উদ্ধার কাজে অংশ নিই। রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়। রোববার সকালে পুনরায় অভিযান চালিয়ে সকাল ৯টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, গুলিয়াখালী সৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


