পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লেখা দুই ভাই-বোনের একটি চিঠি বদলে দিচ্ছে পটুয়াখালীর বাউফল, দশমিনা ও দুমকি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। বাউফল উপজেলার ‘বগা’ ও দুমকি উপজেলার ‘চরগরবদি’র মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লোহালিয়া নদীতে অবশেষে নির্মিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের সেতু। এত দিন লোহালিয়া নদী পারাপারের একমাত্র অবলম্বন ছিল ফেরি, যা পারাপারে বিড়ম্বনার যেন শেষ ছিল না। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস কিংবা রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরির অপেক্ষায় আটকে থাকতে হতো। ফলে অসহ্য ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল বাউফল, দশমিনা ও দুমকি উপজেলার বাসিন্দাদের।
বগা ফেরিঘাটের এই বিড়ম্বনার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছিল শিশু মাহমুদ ইয়ামিন ও আবিরার। দুই মাস আগে অসুস্থ নানাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বগা ফেরিঘাটে আটকে যায় তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পরেও ফেরি না আসায় হৃদরোগে আক্রান্ত নানাকে নিয়ে তাদের উদ্বেগ বাড়ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফেরি এলে তারা গন্তব্যে রওনা হয়। ফেরিঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি তারা হয়েছিল, তাতে সাধারণ মানুষের এই কষ্ট তাদের মনে স্থায়ী দাগ কেটে যায়। এসব সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন—এই ভাবনা থেকেই বাড়ি ফিরে লোহালিয়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে গত ১৯ এপ্রিল ইয়ামিন ও আবিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি চিঠি লেখে। সেই চিঠি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। শিশু ইয়ামিন দুর্ভাগ্যবশত সেদিন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে না পারলেও, তার ছোট বোন আবিরা সাহসের সঙ্গে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলে।
চিঠি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কালবিলম্ব না করে গত ১৯ মে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে বাউফলে পাঠান। তিনি লোহালিয়া নদীর প্রস্তাবিত সেতুস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পটুয়াখালী সদর আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বাউফলের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বহুল কাঙ্ক্ষিত বগা সেতুর নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আবিরার চিঠি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য এখানে এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি বছরের শেষ দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে এখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পরে সেতুর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লেখার জন্য সেতুমন্ত্রী ছোট্ট আবিরাকে পুরস্কৃত করেন।
এদিকে, সামান্য একটি চিঠির কারণে পটুয়াখালীর তিন উপজেলাবাসীর ভাগ্য বদলে যাওয়ার খবরে আবিরাকে নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত সেই চিঠির লেখক দুই ভাই-বোনের মধ্যে আবিরা দাশপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং তার বড় ভাই মাহমুদ ইয়ামিন বাউফল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাবা আপেল মাহমুদ মধু বরগুনা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত এবং মা নাজমুন নাহার ইরানি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা।


