সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঁদাবাজি ও গুরুতর জখমের একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিএনপির একাংশ ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) গভীর রাতে মামলা নং-১৬/৩০৩(০৭)২৬-এর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন। এ সুযোগে কয়েকজন আসামি পালিয়ে যান। পরে পৃথক অভিযানে নাজিম ও রফিক নামে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে নুরুন্নাহার নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ তার বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোক করে মারা যান।
তবে নিহত নুরুন্নাহারের ছেলে মোহাম্মদ আকিব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের বাড়িতে তল্লাশি করতে এলে আমার মা ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘রাতে একজন বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।’
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যে বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তার বাড়ি এবং আসামিদের বাড়ির মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে। ওই বাড়িতে আমাদের কোনো তালিকাভুক্ত আসামি ছিল না। তাই সেখানে পুলিশের যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। একটি চাঁদাবাজ চক্র পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মব সৃষ্টি ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বৃদ্ধার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটির সার্বিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


