ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন জামালপুর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন সহ নয়টি ইউনিয়নের গ্রামগুলিতে যেখানে জীবনধারণ এখনও কঠিন এবং মানুষের জীবন মূলত ক্ষুদ্র পরিসরের উপর নির্ভরশীল সেই গ্রামগুলোতে হাঁস পালন করে পুষ্টি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করছে।
প্রজননযোগ্য পশু,পালন নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি, এই কর্মসূচিটি মানুষের, বিশেষ করে দরিদ্র ও জাতিগত সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর পুষ্টি ও মানসিকতাকে হীনমন্যতা ও কষ্ট মেনে নেওয়ার মনোভাব থেকে সরিয়ে এনে সক্রিয়ভাবে নিজের পরিবারের পুষ্টি সহ জীবিকা নির্বাহ, ক্রমান্বয়ে আয় বৃদ্ধি এবং আরও স্থিতিশীল জীবনের দিকে এগিয়ে যেতেও অবদান রাখে।
বাস্তবে, এই বাস্তবায়ন থেকে দেখা গেছে যে, প্রাথমিক হাঁস পালনের মাধ্যমে অনেক পরিবারের পুষ্টির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় করেছে, হাসঁ পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং উৎপাদন আরও সম্প্রসারণের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। সঠিক সুযোগ ও যথাযথ সহায়তা পেলে মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে এবং তাদের পরিবারের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস লাভ করে।
২০২৩ সাল থেকে, দেশজুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্প অংশীদারিত্ব করে আসছে। ২০২৬ সালটি এই সহযোগিতার টানা তৃতীয় বছর, যেখানে পুষ্টি যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য জেন্ডার বৈষম্য বাল্যবিবাহ মাদক কর্মসূচিগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে অনেকগুলো পরিবার উপকৃত হয়েছে। এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে, দীর্ঘমেয়াদী, অবিচল এবং দায়িত্বশীল অঙ্গীকারের প্রমাণ দেয়।
১৪ ই জুলাই সকালে, ঠাকুরগাঁও ওয়ার্ল্ড ভিশন রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের সহযোগিতায়,ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর, নারগুন, মোহাম্মদপুর, জামালপুর সহ ৯টি ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত ৩৩৩টি পরিবারগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ৩৩৩টি হাসাঁ এবং ২৬৬৪টি হাসিঁ সহ হাঁস বিতরণ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোঃসাইদুর রহমান ও ওয়ার্ল্ড ভিশন রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার জুলিয়াস আর্থার সরকার, মোঃইকবাল হোসাইন মনিটরিং এন্ড ইবালুয়েশন স্পেশালিষ্ট সহ প্রকল্প অফিসার মারুফা খাতুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আরাজি পস্তমপুর গ্রামের একজন গৃহিণী, মিসেস “ডলি আক্তার জানান আজ হাঁসগুলো পেয়ো আমরা সবাই খুব আনন্দিত । আমি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুযায়ী তাদের যত্ন নেব যাতে হাসঁগুলো মারা না যায়। আমি আশা করি, যখন এগুলো ডিম দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে, তখন হাঁসের পালটি সর্বোত্তম উৎপাদনশীলতা ও গুণমান অর্জন করবে, যাতে ডিম দিয়ে আমার পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে তার পাশাপাশি বিক্রি করা যায় এবং আমার পরিবারের আয় বাড়াতে সাহায্য হয়।।পরিশেষে সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হাসঁ বিতরণ করে কার্যক্রম শেষ করা হয়।।


