বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করলো তাঁরা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননেসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখেনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কি একটা হ্যাভক সৃষ্টি করা হলো। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন? যে যত অপবাদই করেন না কেন? আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুত করতে পারবেন না।’
আজ শনিবার দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘সিটি কলেজের একটি মেয়ে আমাকে প্রশ্ন করে বলে, স্যার বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিলেন। আমি বললাম, হ্যা আমি জানি। বৃষ্টি হয়েছে। সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত। সেই সাথে আমি এটাও বললাম, আমার মেয়ে তানজিদা। ওর মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লে জ¦র আসে ফার্মের মুরগির মতো। তোমাদেরও জ¦র আসে কিনা? সেই জন্য আমি খুব উদ্বিগ্ন। কিন্তু কি করা যাবে? আমাদের তো সকলের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নিতে হয়। সকলেই বলেছিল পরীক্ষা নেওয়া যাবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই কথার একটা ন্যারাটিভ দ্বার করালো। তাঁরা এই ন্যারাটিভকে নেগেটিভে নিয়ে গেল। এভাবে জাতি যদি অর্ধকানা হয়ে যায়। তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। কিভাবে আমাকে নিয়ে ট্রল শুরু হয়ে গেল। আমাকে নিয়ে যাঁরা ট্রল করলো তাদের কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননেসার মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাউকে দেখেনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিস গাইডেড করে কি একটা হ্যাভক সৃষ্টি করলো।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তাঁরই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কি করে ভাবতে পারেন? অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তাঁর মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’
নওগাঁ সদর উপজলো পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যে শিক্ষা রাষ্ট্র এবং ব্যক্তি জীবনে কোনো কাজে আসবে না সে শিক্ষা থেকে দূরে সরে যেতে হবে।’
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকে একটি অসাধারণ, ঐতিহাসিক মূহূর্ত। প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তরের অংশ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি খুবই করিতকর্মা একজন ব্যক্তি। শিক্ষা কার্যক্রম শুরু অনুমোদন দেওয়ার পর খুবই অল্প সময়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে এই অঞ্চলের বাতিঘর। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ইট, পাথর, বালির প্রতিষ্ঠান নয়। এই অঞ্চলকে আলোকিত করবে এই বিশ্ববিদ্যালয়।’
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় মন্ত্রী বি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক লাইব্রেরী ও কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন। সুধী সমাবেশ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ৮০ জন শিক্ষার্থীর হাতে আম গাছের চারা তুলে দিয়ে বরণ করে নেয় বিশশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সভায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া বিভাগ দুটি হলো আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ। ২০২৫—২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।


