সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটস্থ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের ১ হাজার ৭৩ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বড় ধরনের শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিল হস্তান্তরের আগে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ফৌজদারহাটস্থ জলিল টেক্সটাইল মিলের প্রধান ফটকে জলিল টেক্সটাইল মিলস্ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিবিএ)-এর উদ্যোগে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিলের সাবেক ও বর্তমান শ্রমিকদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জলিল টেক্সটাইল মিলস্ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিবিএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মসি উদ দৌলা। এতে বক্তব্য রাখেন সিবিএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছিদ্দিকসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলিল টেক্সটাইল মিল বন্ধ থাকায় মিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৭৩ শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকরা বছরের পর বছর মিলের উৎপাদন কার্যক্রমে শ্রম ও সময় দিয়েছেন। কিন্তু মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের প্রাপ্য পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
তারা বলেন, শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শ্রমিকদের অধিকারকে উপেক্ষা করা যাবে না। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করে কোনোভাবেই মিল হস্তান্তর করা উচিত নয়।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, মিল হস্তান্তর কিংবা মালিকানা পরিবর্তনের আগে শ্রমিকদের পাওনা কত, কার কত পাওনা রয়েছে এবং কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা দীর্ঘসূত্রতা মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একজন শ্রমিকের কাছে তার পাওনা শুধু টাকা নয়; এটি তার পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা আটকে রেখে শ্রমিকদের পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শ্রমিক নেতাদের দাবি—মিল হস্তান্তরের পূর্বেই ১ হাজার ৭৩ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা নির্ধারণ ও পরিশোধের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে জলিল টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে শ্রমিকরা তা মেনে নেবেন না।
তারা বলেন, ‘আগে শ্রমিকের পাওনা, পরে মিল হস্তান্তর’—এই নীতিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত সমাধান না হলে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সমাবেশে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা।


