সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌরসভার ওয়েবসাইটের আদলে ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শুধু সনদ তৈরি নয়, ওই নথি ব্যবহার করে জমির নামজারি ও দলিল রেজিস্ট্রির চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভায় তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশ সনদ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড পৌরসভার স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৮-এর মাধ্যমে আলোচিত ওয়ারিশ সনদটিকে ভুয়া, অবৈধ ও আইনত অস্তিত্বহীন ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৯ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে ওই সনদের ভিত্তিতে কোনো নামজারি বা দলিল রেজিস্ট্রি না করার জন্য জানানো হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৬ নম্বর স্মারকে হাছিনা বেগমকে মূল ওয়ারিশ সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পৌরসভায় হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি পৌরসভায় উপস্থিত হননি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
‘পৌরসভার সিল-স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে’ সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জাল সনদে পৌরসভার প্যাড ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেখানে থাকা স্বাক্ষর তাদের নয়; সিল-স্বাক্ষর নকল করে সনদটি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই সনদের ভিত্তিতে করা নামজারি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সনদ জালিয়াতির ঘটনায় পৌরসভার পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তের পর সনদটি জাল বলে পাওয়া গেছে। পরে সেটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। জাল সনদ তৈরির ঘটনায় মামলা করার জন্য সনদ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার ওয়ারিশ সনদে তাঁর একটি স্বাক্ষরের দায়িত্ব রয়েছে। তবে আলোচিত সনদে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তাঁর স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ থানায় অভিযোগ করলে তা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘বিষয়টি জানি না’
সীতাকুণ্ড পৌরসভার সনদ প্রদানকারী ওয়েবসাইট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিনের কাছে ক্লোন ওয়েবসাইটে কীভাবে প্রবেশ করা হয়েছে, এতে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন থানায় যাওয়া হয়নি—এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো তাঁর জানা নেই। বিস্তারিত জেনে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সনদ জালিয়াতির ঘটনায় মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ঘটনাটি শুধু একটি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পৌরসভার ওয়েবসাইটের আদলে ক্লোন সাইট তৈরি, সরকারি কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর নকল এবং ওই নথি ব্যবহার করে জমির নামজারি করার চেষ্টার বিষয়ও জড়িত।
তাদের মতে, ক্লোন ওয়েবসাইটটি কারা তৈরি করেছে, কোন ডিভাইস বা আইপি ঠিকানা থেকে সেটি পরিচালিত হয়েছে, পৌরসভার সিল-স্বাক্ষর কীভাবে নকল করা হয়েছে এবং জাল সনদের ভিত্তিতে নামজারি প্রক্রিয়ায় কীভাবে নথিটি ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।


