আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে একের পর এক মরদেহের সন্ধান মিলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ হাজারো মানুষকে উদ্ধারে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকায় একটি কাদায় চাপা পড়া বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার অভিযানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। এসব এলাকায় এখনো বহু শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারগুলো দিনের পর দিন স্বজনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগের মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
বন্যার ভয়াবহতার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তাও বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া নেপালে ৪৪ সদস্যের একটি দুর্যোগ ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করবে এবং প্রায় ১০ দিন সেখানে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে বহু বসতি ও স্থানীয় অবকাঠামো। জীবনের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও দীর্ঘদিনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বন্ধনও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উদ্ধারকারীরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও কাদায় ঢাকা ধ্বংসস্তূপে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আবহাওয়ার অবনতি ও নতুন ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কঠিন হয়ে উঠছে।
নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান শেষ হলে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


