আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের সামরিক এসকর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তায় মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অতিক্রম করেছে ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ। এসব জাহাজে ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে এটিই এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক এসকর্ট অভিযান। জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেও অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের প্রায় ৬০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কয়েকটি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাহিনীকে একই সময়ে ইরানি ড্রোন হামলার ঢেউ মোকাবিলা করতে হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অর্থাৎ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হরমুজ ঘিরে সামরিক অভিযানও চালিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ সচল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধের কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যিক চলাচল এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে ইরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন করে আরও ১১টি জাহাজকে নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করেছে। এতে নিষিদ্ধ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬-তে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করতে পারে। এ কারণে আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির আশপাশে আরও সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে ওয়াশিংটনের। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।


