সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও ভয়াবহ সন্ত্রাসী তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের পাশাপাশি এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৪ মে) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আলীনগর এলাকায়। স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উদ্বোধনের কথা ছিল আলীনগরের নির্মাণাধীন এই ক্যাম্পটির। তবে উদ্বোধনের আগেই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ডাম্পট্রাক ও বুলডোজার ব্যবহার করে সলিমপুরে প্রবেশের প্রধান সড়কসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে দেয়। এতে এলাকায় প্রবেশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সন্ত্রাসীরা আলীনগর ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দায়িত্বরত র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা অবস্থানের মুখে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, হামলায় ক্যাম্পটির প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন সংঘবদ্ধ হামলা ও সড়ক বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটল—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একদিনে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে ব্যবহৃত ডাম্পট্রাক, ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অন্যদিকে, র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সন্ত্রাসীরা সহজেই এখানে আত্মগোপন করতে পারে। তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ অস্ত্রও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি দূর না হলে ভবিষ্যতে অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


