সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, বাগানবাড়ির ১৯টি গাছ কেটে ফেলা এবং অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূরুল আবছার।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে নূরুল আবছার জানান, তিনি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার একজন ব্যবসায়ী। এলাকার একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় গত ২০ অক্টোবর সন্ত্রাসী সুমন তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু থানায় অভিযোগ করার পরও হামলাকারীরা থেমে থাকেনি।
নূরুল আবছারের দাবি, জিডি করার পরদিন ২১ অক্টোবর সুমন ও তার সহযোগীরা তার বাগানবাড়িতে গিয়ে একটি বড় জামগাছ ও ১৮টি আমগাছ কেটে ফেলে। এতে তার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। গাছ কাটার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল আবছার আরও অভিযোগ করেন, তার ওপর হামলা ও বাগানের গাছ কাটার ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন গত ৩১ অক্টোবর ‘জাগ্রত চট্টগ্রাম (জেসি) টিভি’ নামের একটি অনলাইন মিডিয়ায় তার কণ্ঠ ও ছবি সম্পাদনা করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেন।
তার দাবি, ওই সংবাদে তার বক্তব্য ও পরিচয় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নূরুল আবছার বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্মান বজায় রাখাও তার অধিকার। কিন্তু চাঁদা দাবি, হামলা, গাছ কেটে ক্ষতিসাধন এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মতো ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল আবছার তার ওপর হামলা, বাগানের গাছ কেটে ক্ষতিসাধন এবং অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সুমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হলে তা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, বরং এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।


