আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে আগামী দিনগুলোতে বাড়তি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। ইতোমধ্যে আগাম ভোটে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ভোটার, যা ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোটের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি এবং প্রভাব বাড়তে পারে।
নির্বাচনের আগে রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ ভোটার। জরিপের এই ব্যবধানে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রতিযোগিতা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের হিসাব তুলনামূলক জটিল।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারে অংশ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ নভেম্বর) সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি ভোটাররা তাঁকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে ভোট দিলে রিপাবলিকানরা জয় পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ৩২ দিনে ২০টি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো ভোট গণনা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। অ-মার্কিন নাগরিক হতে পারেন—এমন অভিযোগে ২০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ব্যালট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদন করে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই দিনে এক ফেডারেল বিচারক সন্দেহভাজন অ-মার্কিন নাগরিকদের তালিকায় থাকা ভোটারদের ব্যালট আলাদা রাখার দাবি জানানো থেকেও প্রশাসনকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
মিশিগানেও সিনেট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে জয়ী হলে এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হতে পারেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে তাঁর কাছে পরাজিত প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনস দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। এ ঘটনায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আলোচনায় এসেছে।
আলাস্কাতেও সিনেট নির্বাচন নিয়ে আইনি বিরোধ দেখা দেয়। রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলে নির্বাচনের ফল অনুমোদন স্থগিত রাখার দাবিতে মামলা করেছিল বিচার বিভাগ। একই নামের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে গত রোববার (১ নভেম্বর) এক ফেডারেল বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ। অর্থাৎ এবার আগাম ভোটের সংখ্যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দিনের নীতি ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন ভোট গণনা শেষে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, সেদিকেই নজর যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের।


