কক্সবাজার সংবাদদাতাঃ
আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরব বিপ্লব ঘটাতে হবে। দাঁড়ি পাল্লা এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয় করতে এ ব্যালট বিপ্লব ঘটানো প্রয়োজন।
এ বিপ্লবের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, লুটপাটকারি ও লুটেরাদের নানা অপকর্মের সমুচিত জবাব দিতে হবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যে শুভ যাত্রা শুরু হয়েছে তাকে সফল করে তুলতে হবে।
২৪-র জুলাই- আগস্টের চেতনার আলোকে পরিবর্তিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করার কোন বিকল্প নেই। দাঁড়ি পাল্লার বিজয় না হলে এ দেশ আবারো চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজে ভরপুর হয়ে উঠবে।
৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে ঈদগাঁওতে আয়োজিত বিশাল পথসভায় বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ঈদগাঁও বাস স্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় জেলা ও উপজেলার ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈদগাঁও উপজেলা ও কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ উপলক্ষ্যে “চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ”স্লোগানে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা মাঠ থেকে বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। যা বাজারের প্রধান সড়ক ডিসি রোড অতিক্রম করে বাস স্টেশনে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী, জেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোছাঈন চেয়ারম্যান, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম, এনসিপির উপজেলা আহবায়ক তারেকুর রহমান প্রমুখ। মিছিলে সুদৃশ্য দাঁড়িপাল্লা, বাংলাদেশ ও জামায়াতের দলীয় পতাকা বহন করেন অনেকে।
এসময় একটি খোলা যানবাহনে উঠে হাত উঁচিয়ে জনগণকে অভিবাদন জানান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর।
বাস স্টেশন মঞ্চে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। বক্তব্যে তিনি ন্যায়, ইনসাফ, মানবিক ও সাম্যের রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট আহ্বান করেন। দাঁড়িপাল্লা তথা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সরকার গঠন করার সুযোগ পেলে বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় ‘হাঁ’ ভোটকেও বিপুলভাবে জয়যুক্ত করে দেশের চলমান সংস্কারের পথকে আরো সুপ্রসন্ন করার অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন মাওলানা ছৈয়দ নুর হেলালি। প্রধান বক্তা ছিলেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম (ভিপি বাহাদুর)। প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জি, এস এস, এম, ফরহাদ।
বিশেষ বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টির) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কাসেম, শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরীর চাচা মনিরুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আমিনুল হক, খেলাফত মজলিস কক্সবাজার জেলার সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা শহিদ উল্লাহ মিয়াজী, একই সংগঠনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুনায়েদ মাহমুদ শাহেদ।
অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন এনসিপি মনোনীত কক্সবাজার- ৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের এম্বাসেডর ইফতেখারুল ইসলাম, জাতীয় যুবশক্তির কক্সবাজার জেলার আহবায়ক জুনায়েদ হোসেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক আতাহার সাকিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান, সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমীর পাল, শহীদ আব্দুর রশিদের ছেলে লোকমান সোরাইন, এনসিপির ঈদগাঁও উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি রহিম চৌধুরী প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সাবেক জেলা সভাপতি মাস্টার ছৈয়দ নূর হেলালী, মাস্টার ছৈয়দুল আলম হেলালী, এডভোকেট এস,কে, ফারুকী, জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিনিধি রুবায়েত এম, আদেল, ছাত্র প্রতিনিধি ফারুক মোহাম্মদ নওশাদ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াত সেক্রেটার মাওলানা নুরুল আজিম, সাবেক ছাত্রনেতা লয়েক ইবনে ফাজেল ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা তৈয়ব উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা কামাল আহমদ সওদাগর জামায়াতে যোগ দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক উপহার দেন শহিদুল আলম বাহাদুরকে।


