ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী ইউনিয়ন থেকে লবণ বোটের এক শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। গতরাতে নিজ এলাকার পলিথিন মার্কেটে পান কিনতে গেলে তাকে আটক করে ঈদগাঁও থানা পুলিশ। তবে তার পরিবারের দাবি ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে তাকে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। আটককৃত শ্রমিকের নাম মোঃ রাশেদ (৩০)। তিনি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নাইক্ষ্যনদিয়ার আবুল হোছনের পুত্র। গত ২৬ এপ্রিল তাদের এলাকায় অনুষ্ঠিত দুই ভাইয়ের মধ্যকার একটি মারামারির ঘটনায় তাকে এক নম্বর আসামি দেখানো হয়েছে। একই মামলায় তার বড় ভাই টমটম চালক মোহাম্মদ শাহ জাহান এবং তাদের পিতা আবুল হোছনকেও আসামি করা হয়। ঈদগাঁও থানায় এ মামলাটির এজাহার দেয় একই এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের পুত্র মোজাফফর আহমদ। তবে ঘটনার সাথে এ তিনজন কোনভাবেই জড়িত নয় বলে জানান তাদের স্বজনরা। এক নম্বর আসামি মোঃ রাশেদ গত কয়েকদিন পূর্বে ইসলামপুর থেকে নিজ এলাকায় আসেন। দুই ভাইয়ের মধ্যকার মারামারির ঘটনার সময় তিনি লবণ বোটে কর্মরত ছিলেন। এজাহার দাতা মোজাফফর আহমদকে তার আপন বড় ভাই টমটম চালক মোঃ জাহাঙ্গীর বেধড়ক মারধর করেছিল বলে জানান তাদের এক স্বজন। এ সংক্রান্ত স্বীকারোক্তির একটি ভয়েজ অডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
আটক রাশেদের ভাবি জোসনা আক্তার জানান, তার দেবর রাশেদ গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে চেয়ারম্যান পদে ইলেকশন করে পরাজিত হন। একই ওয়ার্ড থেকে আরো একজন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচনের পরে রাশেদদের উপর ব্যাপক আক্রমণ হয়েছিল। যার কারণে সে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষরা রাশেদদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দেয়। তবে এ মামলায় তারা তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এদিকে রাশেদদের মামলায় মোঃ আসলাম নামে এক যুবক গত কয়েকদিন আগে আটক হয়। অন্যদিকে বিগত সরকারের আমলে রাশেদকে কক্সবাজার সদর থানার একটি রাজনৈতিক হয়রানি মূলক মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল। ২-৩ মাস এ মামলায় সে কারাগারেও ছিল।
রাশেদের বড় ভাই মোহাম্মদ শাহ জাহান জানান, সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হচ্ছে, মহল বিশেষের ইশারায় আমাকে, আমার ছোট ভাই রাশেদ ও আমাদের বয়োবৃদ্ধ পিতাকে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘটিত মারামারির মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ তারা ঘটনার সাথে কোনক্রমেই জড়িত নহে। ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে বারবার তাদেরকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে তাদেরকে অহেতুক এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। যার প্রমাণ মামলার এজাহার দাতার আপন স্বজনদের অডিও স্বীকারোক্তি। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে তাদের পরিবারকে রেহাই দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


