আব্দুল্লাহ আদনান ঢাকা থেকে:
একটি দুর্ঘটনা মানে সারা জীবনের কান্না। একটি দুর্ঘটনা মানে শুধু একটি মুহূর্তের বিপর্যয় নয়,-এটি অনেক পরিবারের সারা জীবনের কান্নার কারন হয়ে দাঁড়ায়। আনন্দ আর মিলনের বার্তা নিয়ে আসা পবিত্র ঈদ যেন এবারের যাত্রা পরিণত হল বিষাদের প্রতীকে।
প্রিয়জনদের কাছে ফেরার পথে কিংবা কর্মস্থলে ফিরে আসার পথে অগনিত মানুষ পৌছাতে পারেনি গন্তব্যে, কেউ ফিরছেন নিথর দেহ নিয়ে,কেউবা জীবনের জন্য লড়ছেন হাসপাতালের বিছানায়।
যাত্রী কল্যান সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ যাত্রায় দেশে-ট্রেন, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল মিলে ৩৪৬ টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় প্রান গেছে ৩৫১ জনের, আহত হয়েছেন ১০৪৬ জন। এই হিসাব কেবল পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি সংখ্যার পিছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, একটি অসমাপ্ত গল্প।
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ে কয়েকগুন। অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকের বেপরোয়া গতি, দীর্ঘ সময় গাড়ী চালানোর ক্লান্তি এবং যানবাহনের ত্রুটি- সবমিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুনে। আবার নিয়ম অমান্য করে ওভারটের্কিং কিংবা ট্রাফিক আইনকে উপেক্ষা করার প্রবণতাও ডেকে আনে ভয়াবহ পরিণতি।
এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কোথাও বাসের, কোথাও ট্রেনের অব্যবস্থাপনায় নিভে গেছে তাজা প্রান। এসব দুর্ঘটনায়, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে, পরিবারগুলো পড়েছে অনিশ্চয়তার গভীর অন্ধকারে । ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে।
একজন মায়ের কান্না, যে তার সন্তানকে আর কখনও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না, একটি শিশুর অবুঝ প্রশ্ন-” বাবা কবে আসবে?” এসব দৃশ্য আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। অথচ সামান্য সচেতনতা, কিছু নিয়ম মেনে চলা আর একটু দায়িত্বশীল আচরণই অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে।
প্রতিটি দুর্ঘটনা আমাদের জন্য একটি বার্তা। আমরা যদি এখন না শিখি, তবে এ রক্তাক্ত পথচিত্র আরও দীর্ঘ হবে। ঈদের আনন্দ যেন আর কারো জীবনে শোকের কারন না হয়-এ প্রত্যাশা সকলের।
একটি দুর্ঘটনা যেন আর কোন পরিবারের সারা জীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়-এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


