বারহাট্টা নেত্রকোনা সংবাদদাতা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার ও সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর ওপর বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। তারা সংবাদটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে সংবাদকর্মীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সংবাদকর্মীর দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতামত এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা—সব ধরনের সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এরপরও সংবাদ প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হক সোহেল জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের বাবা-মাকে মারধর করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক সোহেলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত বা তথ্যগত প্রতিক্রিয়া জানানো যেতে পারে। তবে সংবাদকর্মীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাপ প্রয়োগ করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত কাজে বাধা বা হুমকি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
এ ঘটনায় সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


