জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এক কৃষকের লাউখেতের সব গাছ রাতের আঁধারে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করেছিলেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন। লাউ ধরার আগেই গাছগুলো কেটে দেওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধসহ সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউগাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। খেতের পাশে বসে ছিলেন শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তাঁর স্ত্রী মাধবী রানী। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মাধবী।
শরণ্যচন্দ্র বর্মন বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৬ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে খেতে গিয়ে প্রথমে গাছগুলো নুয়ে পড়া দেখতে পান। পরে গাছের গোড়া পরীক্ষা করে দেখেন, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা সব গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ঋণের টাকা দিয়ে অনেক আশা নিয়ে লাউ চাষ করেছিলেন। লাউ ধরার আগেই সব গাছ কেটে দেওয়ায় তাঁর পুরো পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
মাধবী রানী বলেন, ‘ঋণ নিয়ে এইটুকু জমি বর্গা নিয়েছি। লাউ ধরার আগেই শত্রুতামূলকভাবে আমাদের সব গাছ কেটে দিয়েছে। এখন আমরা কীভাবে চলব? ঘরে একটি মেয়েসন্তান আছে। তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। আমাদের এখন চলার কোনো পথ নেই।’
স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারটি অনেক কষ্ট করে জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ করেছিল। রাতের আঁধারে এভাবে গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সরাসরি ক্ষতিপূরণের সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে তাঁকে ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


