ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় একটি রাইস মিলের বিদ্যুৎ মিটারে ত্রুটির অভিযোগ তুলে মিটার খুলে নেওয়ার পর গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীন ধামইরহাট জোনাল অফিসে কর্মরত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পৌর এলাকার জয়জয়পুর গ্রামের রাইস মিল মালিক জাইদুল ইসলাম গত তিন বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিলেন। হঠাৎ করে তার মিটারকে ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে গত মঙ্গলবার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সেটি খুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তিনি জোনাল অফিসে গেলে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আলমঙ্গীর হোসেন তার কাছে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী জাইদুল ইসলাম বলেন,
“আমি নিয়মিত বিল পরিশোধ করেছি। কোনো অনিয়ম করিনি। তারপরও আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, মিটার খুলে নেওয়ার কারণে মৌসুমের সময় তার মিল বন্ধ রয়েছে। এতে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে, কিন্তু আয় বন্ধ থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি তাকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে মিটার ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব এবং বাকি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুনরায় মিটার সংযোগ স্থাপনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য এজিএম আলমঙ্গীর হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আপনি আগামীকাল অফিসে আসেন, বিস্তারিত জানানো হবে।”
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব জিয়া জানান, “মিটারটিতে সমস্যা ছিল, যার কারণে দীর্ঘদিন কম বিল আসছিল।”


