ডেস্ক রিপোর্ট:
আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের আগে মাকে পাঠানো ছেলের এই শেষ ভয়েস মেসেজ এখন বারবার কাঁদিয়ে তুলছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ময়না খাতুনকে।
রোববার (৮ আগস্ট) দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ময়না খাতুনের দুই ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক। এ ঘটনায় আত্রাই উপজেলার আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন ও সুমনদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহতদের মা ময়না খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলেছিল মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো। আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কী সর্বনাশ হলো বাবা আমার।
তিনি বলেন, কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি। বলল, ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো। যখন আগুন লাগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস মেসেজ দিছে। দিয়ে বলে মা, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।
দুই সন্তানকে হারিয়ে বারবার বিলাপ করে ময়না খাতুন বলেন, হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে।
ছেলে মোহনের বিয়ের কথা মনে করে তিনি বলেন, মোহন বলতেছিল এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।
নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।


