ডেস্ক রিপোর্টঃ
নওগাঁ পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট)-এর ভেতরে ড্রেন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স উডেন ফার্নিচার হাউস’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম, সিডিউল লঙ্ঘন ও সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশের সিডিউল অনুযায়ী আরসিসি (RCC) ঢালাই দিয়ে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, অধিক মুনাফার লোভে সম্পূর্ণ নিম্নমানের ইটের গাঁথুনি দিয়ে ড্রেনটি তৈরি করেছেন ওই ঠিকাদার। এমনকি নির্মাণ শেষে ড্রেনে সঠিকভাবে প্লাস্টারও করা হয়নি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের কোনে আগাছায় পূর্ন হয়ে আছে ড্রেনটি। ড্রেনে রড দিয়ে ঢালাই করার কথা থাকলেও সেটি শুধু ইটের গাথনি দিয়ে কাজ শেষ করে রেখেছে।
নওগাঁ জেলা জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিটিআইয়ের ভেতরের ড্রেন নির্মাণের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE) ৬ লাখ ৪১৪ টাকা বাজেটের একটি টেন্ডার আহ্বান করে। কাজটির কার্যাদেশ পায় ঠিকাদার মোঃ গোলাম মোস্তফার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স উডেন ফার্নিচার হাউস’। নিয়ম অনুযায়ী আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে মজবুত ড্রেন করার কথা থাকলেও ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা সম্পূর্ণ সিডিউল বহির্ভূতভাবে কম খরচে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেন। কাজের মান এতটাই নিম্নমানের যে ড্রেনটিতে প্লাস্টার করার প্রয়োজনও বোধ করেননি তিনি।
অভিযোগ উঠেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারকে প্রায় ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও সরজমিনে যে কাজ হয়েছে, তার প্রকৃত আর্থিক মূল্য পরিশোধিত ওই বিলের অর্ধেকের সমান।
সিডিউল ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোঃ গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, “পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়ার কারণে আরসিসি ঢালাই করা সম্ভব হয়নি।” তবে জায়গা না থাকার অজুহাতে কেন আরসিসির বদলে ইটের কাজ করা হলো এবং প্লাস্টার ছাড়াই ফেলে রাখা হলো—তার কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। প্রায় তিন লাখ টাকা বিল পাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, তবে সরকারি বরাদ্দের টাকা থেকে অনৈতিক সুবিধা লুটতেই ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা মনগড়া ও অপূর্ণাঙ্গ কাজ জমা দিয়েছেন। ড্রেন নির্মাণের নামে যে টাকা ছাড় করা হয়েছে, বাস্তবে তার অর্ধেক কাজও করা হয়নি। সরকারি অর্থের এমন অপচয় ও অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদার গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ড্রেনটির কাজের মান বাজে হওয়ায় শুরুতেই এর বিল আটকে দেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু পরবর্তীতে কৌশল অবলম্বন করে অর্ধেক বিল বাগিয়ে নেন ঠিকাদার। এ বিষয়ে পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ মিরাজ হোসেন বলেন, “কাজের মান ভালো না হওয়ায় এবং ইঞ্জিনিয়ার অসন্তুষ্ট থাকায় ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা একাধিকবার কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্রে সই নিতে এলেও আমি সই করতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু পরবর্তীতে জনস্বাস্থ্যের ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের অনুমতির ভিত্তিতে ‘কাজ বুঝিয়া পাইলাম’ মর্মে সই করতে বাধ্য হই।”
নওগাঁ জেলা জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, “কাজের মান অনুযায়ী পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার যতটুকু কাজ করেছেন, ততটুকু হিসেব করে প্রায় ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।”


