পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর পত্নীতলায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদানের সময় বৈবাহিক তথ্য গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগও করেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগের পর প্রশাসনিক তদন্তে দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযুক্ত ফায়ার ফাইটারের নাম মো. হাসিবুল হাসান (পরিচিতি নম্বর: ৫০৬৭৩৬)। তিনি বর্তমানে রংপুর বিভাগের দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন।
প্রথম স্ত্রী তামান্না ইসলামের দাবি, ২০১৯ সালে সামাজিকভাবে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাঁদের বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন হয়। ২০২২ সালে হাসিবুল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার পদে চাকরিতে যোগ দেন। তবে চাকরির আবেদন ও নিয়োগের সময় নিজেকে অবিবাহিত দেখিয়ে বৈবাহিক তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
তামান্না ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রবাসী বাবা-মা চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ দুই মাস আগে জানতে পারি, আমার স্বামী নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রামনারায়ণপুর বিহারীনগর এলাকার ইখলাছ হোসেনের বড় মেয়ে মারিয়াকে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি হাসিবুলকে জানালে তিনি সরাসরি অস্বীকার করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিন হাসিবুল আমাকে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। পরে নজিপুর এলাকায় নামিয়ে দিয়ে বলেন, আমি যেন বাসায় চলে যাই, তিনি পরে আসবেন। কিন্তু রাতে জানতে পারি, আমাদের সংসারের টিভি, ফ্রিজ, সোফা, প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে হাসিবুল আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে অভিযোগে উঠে আসা মারিয়ার বাবা ইখলাছ হোসেন বলেন, ‘হাসিবুল ও আমার মেয়ে একে অপরকে বিয়ে করেছে। তিনি আমাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তবে হাসিবুলের আগে বিয়ে হয়েছিল বা তাঁর প্রথম স্ত্রী আছেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিবুল হাসান। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি মারিয়া নামে কোনো মেয়েকে বিয়ে করিনি।’
এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তামান্না ইসলাম। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগটি তদন্ত করা হয়। গত ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই প্রতিবেদনে হাসিবুলের দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর বিভাগের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘হাসিবুল হাসানের স্ত্রী লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চাকরিতে নিয়োগের সময় বৈবাহিক তথ্য গোপন, দ্বিতীয় বিয়ে এবং সংসারের মালামাল ও স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ প্রতিকার দাবি করেছেন তামান্না ইসলাম।


