গাইবান্ধা সংবাদদাতা
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মীরের বাগানে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ইচ্ছা পূরণের মেলা। সহস্রাব্দ প্রাচীন শাহ্ সুলতান গাজীর তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ ও মাজারকে ঘিরে আয়োজিত এই মেলা প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মপ্রাণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এই মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচিত
মসজিদের দেয়ালে খোদিত শিলালিপি অনুযায়ী এটি ১০১১ সালে নির্মিত দীর্ঘদিন জঙ্গলে আচ্ছাদিত থাকার পর ১৯০০ সালে দরবেশ সৈয়দ ওয়াজেদ আলী এটি পুনরাবিষ্কার ও সংস্কার করেন। মীরের বাগানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য।
মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ্ সুলতান গাজী মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফ উদ্দিন হোসেনের মাজার যেখানে প্রতিদিনই ভক্তদের আগমন ঘটে। মেলা শুরুর পর থেকেই দূর দূরান্ত থেকে আগত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই আল্লাহতালার সন্তুষ্টি কামনায় মানত করেন কেউ খিচুড়ি রান্না করে গরীব মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করছেন কেউ মাজারে দান করছেন আবার কেউ বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে এই মেলাকে ঘিরে বহু মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের গল্প প্রচলিত রয়েছে যার কারণে এটি ইচ্ছা পূরণের মেলা নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এতে ধর্মীয় অনুষঙ্গের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতিরও উপস্থিতি দেখা যায় যা এলাকাবাসীর কাছে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও ধর্মীয় আবেগে সমৃদ্ধ এই মীরের বাগানকে ঘিরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।


