সাগর মিয়া, রংপুরঃ
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাভাবিক ফলাফল জয়-পরাজয়— এই বার্তাকে সামনে রেখে রংপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছে গণঅধিকার পরিষদ রংপুর মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, তরুণদের কর্মসংস্থান, সুশাসন ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় উভয়পক্ষই প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মতবিনিময়কালে গণঅধিকার পরিষদের রংপুর মহানগর সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী বলেন, “ভোটের মাঠে জয়-পরাজয় থাকবেই— এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে নির্বাচন শেষে বিভাজনের রাজনীতি চলতে পারে না। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও লক্ষ্য ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই— দেশ ও জাতির উন্নয়ন। তাই নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াছিন আলী শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা গ্রহণ করে বলেন, “নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, কাজের সময়। রংপুরের উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। “যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি— আমি সবার প্রতিনিধি। উন্নয়ন হবে সবার জন্য,” যোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি বেলাল বলেন, অতীতের বিরোধ ভুলে সবাই একসঙ্গে এগোতে পারলে রংপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মানুষের অধিকার ও কল্যাণকেই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে উভয়পক্ষ পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় সচেতন মহল এ বৈঠককে নির্বাচন-পরবর্তী সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।


