নাজমুল হক (সিরাজগঞ্জ)ঃ
ইতিহাস অনেক সময় নীরব মানুষের নাম লেখে না। কিন্তু তাঁদের ত্যাগ ছাড়া ইতিহাসও অসম্পূর্ণ থেকে যায় । ভোলার নিবৃত্ত পল্লী গ্রামের সেই নারী তেমনি একজন– একজন জীবন্ত ফাতেমা। নিজের জীবন, সুখ-শান্তি আর স্বপ্ন পেছনে ফেলে তিনি নিজেকে উত্সর্গ করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সেবায় । দীর্ঘ অসুস্থতা, রাজনৈতিক ঝড়, আর নি:সঙ্গতার মুহুর্তে তিনি ছিলেন পাশে ছায়ার মতো । হাসি কান্না, আশা নিরাশা- সবকিছুর নীরব সঙ্গী ।
এই নারী সেবা যত্নের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়া শেষ নি:শাস ত্যাগ করেন গত ৩০ ডিসেম্বর ।
সেবা যত্ন করতে গিয়ে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত নিরঘুম কাটিয়েছে তাঁর চোখ। ক্লান্ত শরীরেও ছিলনা কোন অভিযোগ । কারন তাঁর কাছে সেরাই ছিল দায়িত্ব, দায়িত্বই ছিল ভালোবাসা । এই ভালোবাসা কোন স্বার্থের নয়, কোন প্রচারের নয় — এ এক নি:শব্দ আত্মত্যাগ ।
সবচেয়ে কঠিন সময় গেছে কারাবাসে। জেলখানার চার দেওয়ালের ভেতরেও তিনি ছিলেন বেগম জিয়ার ভরসা। যেখানে অনেকে দূরে সরে যায়, সেখানে ফাতেমা আরও কাছে থেকেছেন। সেই উপস্থিতি ছিল সাহসের, মানবিকতার উজ্জল আলোকরেখা।
নিজের পরিবার, গ্রাম, ব্যক্তিগত জীবনের কথা তিনি খুব কমই বলতেন, যেন আবেগ গুটিয়ে রেখেছেন বেগম জিয়ার কষ্ট লাঘবের জন্য । তাঁর জীবনে নেই কোন জৌলুস, আছে শুধু ত্যাগের নীরব মহিমা।
তিনি কোন পদক পাননি, শিরোনামের মানুষও নন। তবুও যারা দেখেছেন, জানেন– তিনি ইতিহাসের এক অদৃশ্য সেবিকা। ভোলার নিবৃত্তগ্রামের এই নারী আমাদের মনে করিয়ে দেয় নি:স্বার্থ ভালোবাসাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় ।


