রংপুর প্রতিনিধি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রংপুর মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এ লক্ষ্যে সোমবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় আরপিএমপি কনফারেন্স রুমে এক গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরপিএমপি পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোঃ মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ইএন্ডডি) লিমন রায়। এছাড়াও সহকারী পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন থানার ওসি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণতা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যাত্রী হয়রানি ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতা প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ কমিশনার মহানগর পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মর্ডান মোড়, মেডিকেল মোড় ও কামারপাড়া ঢাকা বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রীসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, পকেটমার ও ছিনতাই প্রতিরোধে মোবাইল টহল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নগরীর ঈদবাজার, শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলোতে অতিরিক্ত মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় টহল কার্যক্রম বাড়ানো এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নিবিড় নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি ও প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুরবানির পশুরহাট ব্যবস্থাপনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সভায়। অতিরিক্ত হাসিল আদায়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রতিটি থানার ওসিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, হাট-বাজার ইজারাদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, মাদককারবারি, সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত, অপরাধপ্রবণ এলাকায় তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং নগরীর প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ব্যাংক, স্বর্ণের দোকান, কুরিয়ার সার্ভিস ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়। ঈদ উপলক্ষে মহানগরের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আরপিএমপি। রংপুর চিড়িয়াখানা, চিকলি ওয়াটার পার্ক, ঘাঘট প্রয়াস পার্ক, তাজহাট জমিদারবাড়ি এবং সুরভি উদ্যান-এ পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, ভ্রাম্যমাণ টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা, হয়রানি ও ইভটিজিং রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে মহানগর পুলিশ। সভায় পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসী যাতে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহানগরের প্রতিটি ইউনিট সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
” তিনি নগরবাসীকে যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা জনদুর্ভোগের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।


