আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পারিবারিক বিবাদের জেরে শাশুড়ির নাক কাঁচি দিয়ে কেটে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থানের জালোর জেলার সারওয়ানা থানা এলাকায়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সোহনলাল। অভিযোগ, শাশুড়ির নাকের কাটা অংশটি হাতে নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর নাম কাইলি দেবী (৫২)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গুজরাটের মেহসানার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে সোহনলালের সঙ্গে কাইলি দেবীর মেয়ে সরিতার বিয়ে হয়। রাজস্থানের প্রচলিত ‘আটা-সাটা’ প্রথা মেনে এই বিয়ে হলেও গত এক বছর ধরে দম্পতির মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ চলছিল। একপর্যায়ে সরিতা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন।
পরিবার ও সমাজের উদ্যোগে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে কোনো সমাধান হয়নি। গত শনিবার দুপুরে আবারও পারিবারিক বিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেলে থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ার পথে কাইলি দেবীর ওপর হামলা করেন সোহনলাল। এ সময় তিনি পকেট থেকে একটি কাঁচি বের করে শাশুড়ির নাক কেটে দেন এবং কাটা অংশ নিয়ে পালিয়ে যান।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় কাইলি দেবীর স্বামী বাবুলাল খিচড় সারওয়ানা থানায় জামাই সোহনলালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সোহনলাল মনে করতেন তার শাশুড়িই দাম্পত্য অশান্তির মূল কারণ এবং মেয়েকে উসকানি দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভাঙছেন। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি এমন হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারওয়ানা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোহনলাল বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


